প্রকৃতির শিক্ষা

যখন তুমি আমার কাছে থাক, তুমি আমাকে প্রায়ই নানা রকমের প্রশ্ন কর, আমিও তার উত্তর দিতে চেষ্টা করি। এখন তুমি রয়েছ মুসৌরী, আর আমি আছি এলাহাবাদ, আমাদের দু'জনের মধ্যে কথাবার্তা কিন্তু এখন আর তেমনটি হবার যো নেই। তাই আনি ভাবছি, আমাদের এই পৃথিবী আর তার যে-সব ছোট বড় নানা দেশ আছে, তারই গল্প তোমাকে মাঝে মাঝে চিঠিতে লিখব। তুমিতো ইংলণ্ড আর ভারতবর্ষের ইতিহাস কিছু কিছু পড়েছ। ইংলণ্ড কিন্তু একটি অতি ছোট্ট দ্বীপ, আর ভারতবর্ষ একটা মস্ত দেশ হলেও পৃথিবীর একটি অতি ছোট অংশ; কাজেই পৃথিবীর কথা কিছু জানতে হলে, কেবল আমাদের নিজেদের জন্মভূমির কথা জানলেই হবে না, আরও যে সব দেশ আছে, আরও যে সব জাতি আছে, তাদের কথাও আমাদের জানতে হবে।

হয়তো, আমার এই চিঠিগুলিতে তোমাকে অল্প কথাই লিখতে পারব, কিন্তু অল্প হলেও আমার মনে হয়, এ-গুলি তোমাকে আনন্দ দেবে, এবং এই মস্ত পৃথিবীটা যে একটা দেশ, আর তার সব জাতের মানুষই যে আমাদের ভাই-বোন, সেই কথাটাও তুমি বুঝতে পারবে। বড় হয়ে, পৃথিবী আর তার মানুষের কথা, তুমি অনেক মোটা মোটা বইতে পড়বে, সে-সব কথা তোমার গল্প আর উপন্যাসের বইয়ের চেয়েও অনেক ভালো লাগবে।

তুমিতো জানই আমাদের এই পৃথিবীটা মস্ত বুড়ী, বহু লক্ষ বৎসর এর বয়স। কিন্তু বহু বহু বৎসর ধরে এর বুকে মানুষের বাসের কোন চিহ্নই ছিল না। মানুষের জন্মেরও আগে পৃথিবীতে বাস করত নানা রকমের জন্তু, আর তারও আগে এই পৃথিবীতে কোন রকমের প্রাণীর চিহ্নই ছিল না। আজ দেখছ কত রকমের মানুষ, আর জীব জস্তুতে ভরা আমাদের এই পৃথিবী; কিন্তু এমনও এক দিন ছিল, যখন এসব কিছুই ছিল না। ভাবতে ভারি অদ্ভুত ঠেকে-না? কিন্তু বৈজ্ঞানিক আর মস্ত মস্ত পণ্ডিতেরা, যাঁরা এ নিয়ে অনেক ভেবেছেন, তাঁরা বলেন যে, পৃথিবী একদিন এত গরম ছিল যে কোন প্রাণীরই এখানে বাস করা সম্ভব ছিল না। আমরা যদি তাঁদের লেখা বই পড়ি, আর নানা রকমের পাথর আর পুরানো জীব-জন্তুর দেহাবশেষ (fossil) নিয়ে নাড়াচাড়া করি, তবে এই সত্য কথাটা অবশ্য জামরা নিজেরাও বুঝতে পারব।

ইতিহাস পাঠ কর তুমি বই থেকে। কিন্তু সেই আদ্যি কালে যখন মানুষেরই জন্ম হয়নি, তখন বই আর আসবে কোথা থেকে? সেই সময়কার কথা কেমন করে জানা যায় বলতো? বসে বসে চিন্তা করে মনগড়া গল্প বানালে তো চলবে না? এ-রকম ভেবে ভেবে গল্প তৈরী করতে পারলে কিন্তু মন্দ হত না, দিব্যি নিজের মনগড়া সুন্দর সুন্দর রূপকথার সৃষ্টি করা যেত-কিন্তু সত্য থাকত না তার মধ্যে একটুও, আর আমাদের চোখে দেখা ঘটনার সাথেও তার মিল হত না কিছুই। সেই আদ্যি কালের লেখা কোন বই আমাদের হাতে না থাকলেও আমাদের কাছে এমন সব উপাদান রয়েছে, যা কিনা ঠিক বইয়ে লেখা ঘটনার মতই সত্য কথা বলে। জান আমাদের কাছে কি কি আছে? আমাদের কাছে আছে পাথর-পাহাড়, আছে তারকা আর সমুদ্র, আছে নদী আর মরুভূমি, আর আছে প্রাচীন জীব-জন্তর কঙ্কাল। এ-সব আর এমনি ধারা আরো অনেক জিনিস-এয়াই হল পৃথিবীর আদিম যুগের ইতিহাসের বই। অন্যের লেখা বই পড়ে, পৃথিবীর যুগ-যুগান্তের কাহিনী আমরা সবটা জানতে পারব না। তার জন্য আমাদের যেতে হবে, প্রকৃতিদেবীর নিজের হাতের লেখা বে একখানা বই আছে, তাই বুজতে। কেমন করে যে এই পাখর আর পাহাড় থেকে ইতিহাস পাঠ করা যার, তার প্রণালীটা, আশা করি, তুমি শীঘ্রই শিখতে আরম্ভ করবে। ভেবে দেখতো কি আশ্চর্য বিস্ময়ের কথা, রাস্তার পাশে অথবা পাহাড়ে গায়ে ঐ যে ছোট্ট

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice